বিপদে পড়ে সোনা বিক্রি করতে চলেছেন! মাথায় রাখুন বিশেষ কিছু নিয়ম, মোক্ষম কাজে আসবে

3.3/5 - (3 votes)

এই পৃথিবীতে উচ্চবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত অথবা মধ্যবিত্ত আর দরিদ্র মানুষের কথা তো ছেড়েই দিলাম প্রায় প্রত্যেককেই অর্থ সংকটে একেবারেই যে পড়েনি এমন কথা বলা ভুল। অবশ্য ঈশ্বরের কৃপায় যেন প্রত্যেকের জীবনী আরো সচ্ছল ও সুমধুর হয়ে উঠুক এমনটাই কামনা করি। তবে বিপদ কি আর বলে করে আসে। আর বিপদের দিনে টাকার প্রয়োজন পড়ে না এমন মানুষের জুড়ি মেলা ভার।

বিপদ হলেই যে সর্বদা টাকা কাছে থাকবে এমন কোন কথা নেই। আর সেই পরিস্থিতিতে হাত পাততে হয় বহু পরিচিত মানুষের কাছে। কিন্তু এখন ব্যাপারটা হল আগেকারের মত বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ মানুষের কাছে হাত পেতে কিছু নেওয়াটা একদমই পছন্দ করে না। সে লড়ে যায় তার সবটুকু দিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আবারো সচ্ছল জীবন কাটানোর উদ্দেশ্যে।

এমন পরিস্থিতিতে কাজে আসে সযত্নে সিন্ধুকে রাখা বহুদিনের সেই মূল্যবান হলুদ ধাতু। স্বল্প টাকার দরকারে মানুষ সোনার গহনা বন্ধক রেখে অর্থ সংগ্রহ করে থাকেন। কিন্তু সমস্যা যদি হয় বড় তাহলে অর্থেরও প্রয়োজন পড়ে বেশি। আর তখনই সেই গহনা বিক্রয়ের কথা মাথায় আসে।

এখন সোনা বিক্রি বললেই তো আর বিক্রি হয়ে যায় না। সোনা বিক্রি অথবা সোনার বিপরীতে ঋণ নিতে চাইলে আপনাকে আগেভাগে ব্যক্তিগত চাহিদাগুলি বুঝে আর্থিক পরিকল্পনা করা আবশ্যক। সাথে সাথে স্বল্প মেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী সুবিধাগুলিও বুঝে নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এখন প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে সোনা বিক্রি করতে হলে যে সমস্ত বিষয়গুলি মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি তা হল, প্রথমত আপনাকে সঠিকভাবে জানতে হবে বর্তমানে সোনার বাজার দর কত চলছে। দ্বিতীয় ধাপে আপনাকে জানতে হবে কোথায় গেলে আপনি ন্যায্য মূল্য পেতে পারেন। তারপর নির্ভুল হিসেব ও বিক্রয় প্রক্রিয়ার উপরেও আপনাকে সমান দৃষ্টিপাত করতে হবে।

সোনার বাজার দর:

সোনার বাজার দর অর্থাৎ বর্তমানে সোনার মূল্য কত চলছে আপনার শহরে অথবা আপনার এলাকায়। আপনাকে আপনার প্রয়োজনে কোন বড় ও বিশ্বস্ত স্বর্ণ প্রতিষ্ঠান থেকে অথবা কোন বিশ্বস্ত পত্রিকা থেকে আজকের সোনার বাজার দর কত চলছে সে সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে গবেষণা সহিত ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। কারণ প্রাচীনকাল থেকেই সোনার দাম নির্ধারণের কোন আদর্শ পদ্ধতি এখনো পর্যন্ত তৈরি হয়ে ওঠেনি। ডলারের পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি, বাজারে চাহিদা এই সমস্ত কারণগুলোই সোনার দাম নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে।

ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি:

আপনি আপনার সোনার গহনা বিক্রয়ের জন্য শুধুমাত্র কোন বড় স্বর্ণ প্রতিষ্ঠান অথবা আপনার নিকট পরিচিত কোন স্বর্ণকারকেই বিশ্বাস করতে পারেন। এর কারণ আপনি সোনা বিক্রয় করতে চাইলেই যে সঠিক দাম পাবেন এমন কোন কথা নেই। কারণ বাজারে এরকম অনেক অসাধুব ব্যবসায়ী আছেন যারা আপনাকে আপনার ন্যায্য মূল্য দিতে সর্বদাই সংকোচ বোধ করবেন। তাই ন্যায্য মূল্য পেতে সর্বদা গহনা বিক্রির আগে সোনার বর্তমান মূল্য কত চলছে সে সম্পর্কে অল্প বিস্তার জ্ঞান রাখা আপনার অত্যন্ত জরুরি।

বিক্রয় প্রক্রিয়া:

সোনা বিক্রি করতে হলে গহনা বিক্রয়ের প্রক্রিয়া অর্থাৎ বিক্রেতাকে সোনা বিক্রয়ের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে বুঝতে হবে। আর তা বুঝতে গেলে নির্ভুল হিসেব ও সঠিক মূল্যায়ন অত্যন্ত জরুরী তাই চলুন বন্ধুরা জেনে নেওয়া যাক নির্ভুল হিসাব আপনি কিভাবে পেতে পারেন।

নির্ভুল হিসাব:

সোনার গহনার দাম নির্ধারণ হয় তার ফাইননেস অর্থাৎ বিশুদ্ধতার উপর ভিত্তি করে। তাই প্রথমত একটি নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত ক্রেতা খুঁজে আপনার কাছে যে সোনা মজুদ রয়েছে তা কোন ক্যারেটের পর্যায়ে পড়ে এবং ওজন-ই বা কত সে সম্পর্কে প্রথমে জেনে নিতে হবে। তারপর সেই গহনার বিশুদ্ধতা অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করা হবে। কারণ বিশ্বের সমস্ত জায়গাতেই সোনার গহনা ক্যারেট অনুযায়ী তৈরি করা হয়ে থাকে। ক্রেতার গহনা কিনেই খ্যান্ত হলে চলবে না। গহনা কেনার পর বিল সাবধানে রাখতে হবে। কারণ এই বিলের মধ্য দিয়েই প্রকাশ পাবে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা ও মূল্য সম্পর্কে নানান তথ্য সমূহ।

আপনাদের একটি বিষয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন যে অনেক সময় অনেক ক্রেতাই রয়েছেন যারা সোনার মূল্যের একটা বিশেষ অংশ অতিরিক্ত চার্জ হিসাবে কাটতে পারেন। আর বিক্রেতাকে এই সমস্ত ক্রেতাদের থেকে সর্বদা সচেতন থাকা প্রয়োজন। অবশেষে দেখে নেবেন কোন কাগজপত্র আছে কিনা এবং আপনার ন্যায্য টাকা মিলেছে কি-না শেষ পর্যন্ত। এই সমস্ত উপরিউক্ত তথ্যগুলির সাথে ওয়াকিবহুল থাকলে আপনি কখনোই অসাধু ব্যবসায়ী দ্বারা প্রতারিত হবেন না। এই প্রকার প্রত্যেকদিন স্বর্ণ সম্পর্কিত তথ্যের সাথে আপডেটেড থাকতে- ajkersonardam.com এর পাতায় চোখ রাখতে ভুলবেন না।

Leave a Comment