আপনার কি জানা আছে, SIP মাধ্যমে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করলে কখন আপনার টাকা খোয়া যেতে পারে?

5/5 - (1 vote)

মিউচুয়াল ফান্ডে সবথেকে সুবিধাজনক এবং লাভজনক বিনিয়োগ পদ্ধতি হলো ‘SIP’ যার পূর্ণরূপ হল ‘সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান’। SIP মাধ্যমে যে কোন বিনিয়োগকারী নির্দিষ্ট সময় অন্তর মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। তাই বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী অর্থ বিনিয়োগের জন্য এই SIP অথবা সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান কেই বেছে নিয়ে থাকেন।

এসআইপি অথবা সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান মাধ্যমে টাকা বিনিয়োগ করলেও এমন কিছু কারণ রয়েছে যে কারণে আপনার টাকা খোয়া যাওয়ার ভয় থেকে যায়। এই কারণগুলি হল;

প্রথমত: বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী এসআইপি মাধ্যমে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করলে অন্তত ১০ থেকে ১৫ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য বিনিয়োগ করা উচিত। অর্থাৎ মোদ্দা কথা হল দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগই আপনাকে উচ্চ রিটার্ন দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে আপনাকে বুঝতে হবে, কোন বড় ধরনের আর্থিক ধসের খবর না থাকলে ছোটখাটো পতনের উপর নির্ভর করে আতঙ্কিত হলে চলবে না। মিউচুয়াল ফান্ডে ইনভেস্ট করলে এই প্রকার ছোটখাটো আর্থিক ঝুঁকি থেকেই থাকে এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তাহলে আখেরে ক্ষতি আপনারই হবে।

দ্বিতীয়ত: এমনও বহু বিনিয়োগকারী রয়েছেন যারা তাদের ফান্ড স্বল্প সমস্যায় পড়েছে জেনেই আতঙ্কিত ও অধৈর্য হয়ে পড়েন। তখন অতর্কিত এই হিড়িক পড়ে ফান্ড থেকে টাকা তুলে নেওয়ার। এমন পরিস্থিতিতে কিন্তু আপনার টাকা হারানোর অথবা লোকসান হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে আপনার বোঝা উচিত যে যেকোনো ফান্ডের মূল্য সাময়িকালের জন্য কমতেই পারে, এতে অতর্কিত হেনস্থা অনুভব করার কিছুই নেই।

তৃতীয়ত: মিউচুয়াল ফান্ড সংস্থাকে কোথায় টাকা খাটাতে হবে অর্থাৎ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে লাভ কোথায় বেশি এছাড়াও স্টক নির্বাচন ও ফান্ডের দেখভালসহ আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে একজন ফান্ড ম্যানেজার মোতায়ন করা থাকে। মিউচুয়াল ফান্ড তৈরির ক্ষেত্রে তার অবদানই সবথেকে বেশি থাকে। আপনার অবশ্যই জানা উচিত মিউচুয়াল ফান্ড বাজার উপকরণ,বন্ড, স্টক, কমোডিটি প্রভৃতির উপর বিনিয়োগ করে থাকে। যদি কোনো কারণে এই বিনিয়োগ বিকল্পগুলি মূল্য হারায় সেক্ষেত্রে মিউচুয়াল ফান্ড-ও মূল্য হারাতে বাধ্য।

চতুর্থত: দীর্ঘমেয়াদি ইনভেস্ট করেও আর্থিক লক্ষে না পৌঁছানোর পিছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো কম রিটার্ন। এমনকি বাজারের অস্থিরতা, লক ইন পিরিয়ড, উচ্চ ব্যয়, এক্সিট লোড ইত্যাদিও বিনিয়োগকারীদের জন্য অসুবিধা জনক হয়ে উঠতে পারে।

পঞ্চম: আপনার বিনিয়োগ করা অ্যামাউন্ট যে সমস্ত বেশ কয়েকটি কারণের উপর নির্ভর করে তা হল ফান্ডের ধরন, বাজার পতনের প্রকৃতি এবং বাজার পতনের আগে ফান্ডের নগদ অবস্থান, সময়কাল ইত্যাদির উপর।

ষষ্ঠ: সর্বদা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের আগে অবশ্যই আপনার দেখে নেওয়া উচিত যে, প্রশাসনিক খরচ বাবদ এবং মিউচুয়াল ফান্ড কোম্পানির খরচ যুক্ত করে কোম্পানি গ্রাহকের কাছে কত টাকা ব্যায় অনুপাত চার্জ করছে। কোম্পানির তরফ থেকে কাঙ্খিত অর্থের পরিমাণ অর্থাৎ চার্জ বেশি হলে বিনিয়োগকারীর বেশ কিছুটা লোকসান হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে।

Leave a Comment